মানুষের জন্য কি নবী রাসুলের প্রয়োজনীয়তা আছে?

মানুষের জন্য কি নবী রাসুলের প্রয়োজনীয়তা আছে?

মানুষের জন্য কি নবী রাসুলের প্রয়োজনীয়তা আছে?

আক্বলের অক্ষমতা

$Washington Irving.jpg*

ওয়াশিংটন আইরায়ভিং

আমেরিকান কূটনীতিক ও লেখক
সাদামাটা হোন
“মুহাম্মাদ যখন মর্যাদার চূড়ায় তখনও তিনি সাদামাটা অবস্থা বজায় রেখেছিলেন। তাই যখন তিনি কোন কক্ষে কোন সমাবেশে উপস্থিত হতেন তখন তার সম্মানে দাঁড়ালে কিংবা বেশি স্বাগত জানালে তিনি তা অপছন্দ করতেন। “

আল্লাহ তায়া’লা মানুষকে সুস্থ স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে সত্য মিথ্যা নিরুপন করতে বিবেক দান করেছেন। যেহেতু মানুষের বিবেকবুদ্ধি ভুল ত্রুটি, অপূর্নাঙ্গতা, প্রবৃত্তি ও স্বার্থপরায়নতা ইত্যাদি নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়; বরং এতে ভিন্নতা ও বৈপরীতও দেখা যায়। কেউ একটা জিনিসকে ভাল মনে করেন অন্যদিকে আরেকজন সেটাকে খারাপ মনে করেন। বরং একই ব্যক্তি স্থান, কাল পাত্রভেদে তার মত পরিবর্তন করে করে থাকেন। অপর দিকে যেহেতু মানুষের বিবেক অদৃশ্য জিনিস বুঝতে এভাবে ভিন্ন হয়ে থাকে তখন অদৃশ্য বিষয় যা অনেক সময় জ্ঞান বুঝতে অক্ষম বুঝতে কতটা বেগ পাবে?! সে সৃষ্টিকর্তা, তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য, আদেশ নিষেধ বুঝতে আরো বেশী অক্ষম। কেননা মানুষ আল্লাহকে তো সরাসরি দেখতেও পায়না। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়। (শুরাঃ ৫১)

এজন্যই আল্লাহ তায়া’লা তাঁর ও বান্দাহর মাঝে দূত হিসেবে তাঁর সৃষ্টির সর্বোত্তম বান্দাহদের থেকে নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্ব দ্রষ্টা। (হাজ্বঃ ৭৫)

তারা মানুষদেরকে তাদের সৃষ্টিকর্তার পথ দেখান। তাদেরকে অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলোর দিকে নিয়ে আসেন। যাতে করে নবী রাসুলদের পরে আল্লাহর কাছে মানুষের কোন অজুহাত বা প্রমাণ না থাকে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ। (নিসাঃ ১৬৫)

আল্লাহর অপরিসীম করুনা

ডেভিড বার্টন

আমেরিকান লেখক
মানুষ হিংস্র, ধর্ম যদি তাকে নিরস্ত না করে
ডেভিড বার্টন রচিত (আমেরিকা প্রার্থনা করে বা না করে)গ্রন্থে প্রকাশিত আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো পরিসংখ্যান মোতাবেক - ৮০% মার্কিন নারী মিন্মে একবার জীবনে ধর্ষণের শিকার হয়। - দৈনিক ১৯০০ জন নারী ধর্ষিত হয়। যার ফলে ৩০% জন মার্কিন যুবতী চৌদ্দ বছর বয়সে গর্ভ কিংবা গর্ভপাত কিংবা প্রসবের মুখোমুখী হয়। - ৬১% ধর্ষণ ঘটে আঠার বছরের কম বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে। - ২৯% ধর্ষন হয় ১১ বছরের কম শিশুদের ক্ষেত্রে।

তাই নবী রাসুল প্রেরণ মানুষের জন্য আল্লাহ তায়া’লার অনেক বড় নেয়ামত। যাতে তারা মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন সেসব জিনিস যা তাদের উপকারী ও তাদেরকে নানা পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করেন। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। (আলে ইমরানঃ ১৬৪)

আল্লাহর বড় নেয়ামত হলো তিনি মানুষের মধ্যে নবী রাসুল পাঠিয়েছেন আবার নবী-রাসূলদেরকে তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই নির্বাচন করেছেন।

মানুষের জন্য নবী রাসুল প্রেরণের এ নিয়ামত আরো বেশী স্পষ্ট হয় যেহেতু তারা আল্লাহর ভাষায় মানুষকে সম্বোধন করেছেন। তারা আল্লাহর অস্তিত্ব, গুনাবলী তাদেরকে বর্ণনা করেছেন। উলুহিয়্যাতের মূল ও ইহার বৈশিষ্ট্যাবলী মানুষকে জানিয়েছেন। অতঃপর তারা এ ক্ষুদ্র নগণ্য মানুষের মর্যাদা, তাদের জীবন, চলাফেরা ও বসবাস ইত্যাদি সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাদের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জিনিস, কল্যাণ অকল্যাণ ইত্যাদির দিকে আহবান করেছেন। আসমান ও জমিনের চেয়ে বিস্তৃত জান্নাতের দিকে ডেকেছেন। এসব কিছুই আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাহর জন্য বহমান নিয়ামত, ইহ তাঁর অনুগ্রহ ও দান। বরং নবী রাসুলগণ মানুষকে পবিত্র করেছেন, তাদের মর্যাদা বুলন্দ করেছেন, তাদের অন্তর, ধ্যান ধারণা ও অনুভূতিকে পবিত্র করেছেন, তারা তাদের ঘর বাড়ি, সম্মান, ধন সম্পদ ইত্যাদি পবিত্র করেছেন। তাদের জীবন, সমাজ জীবন ব্যবস্থাকেও পবিত্র করেছেন। শিরক, পৌত্তিকতা, কল্পকাহিনী ও পৌরাণিক গল্প ইত্যাদির অপবিত্রিতা থেকে মানুষকে পবিত্র করেছেন। জীবন যাপনের জন্য আরো যা কিছু আছে যেমনঃ আচার অনুষ্ঠান, ধর্মানুষ্ঠান, রীতিনীতি, ঐতিহ্য এককথায় সব ধরণের মানবতাবোধ শিক্ষা দিয়েছেন। তারা জাহেলী যুগের অপবিত্রতা যা মানুষের অনুভূতি, অনুষ্ঠান, ধর্মানুষ্ঠান, রীতিনীতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও মৌলিকধারণাকে কলুষিত করেছে তা থেকে মানুষকে পবিত্র করেছেন। জাহেলিয়াত তো জাহেলিয়াতই, সব জাহেলী যুগেই রয়েছে অন্ধকার ও অপবিত্রতা, যা কোন সময় ও স্থানের সাথে নির্দিষ্ট নয়, যখনই মানুষের অন্তর এক আল্লাহর বিশ্বাস থেকে দূরে সরে গেছে, তখনই তাদের জীবন জাহেলী যুগের ধ্যান ধারণা দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তখন মানুষকে এ অন্ধকার থেকে মুক্ত করা জরুরী হয়ে পড়েছে। জাহেলী যুগ বলতে সব জাহেলীয়াতকে বুঝায় যা আগের যমানায় হোক বা বর্তমান যমানায় হোক। যেখানেই আখলাক চরিত্র, সমাজ ব্যবস্থা, মানুষের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভ্রষ্ট হয়েছে তাই জাহেলী যুগ, চাই সেখানে আধুনিক বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ হোক, শিল্প উৎপাদন হোক,বা সাংস্কৃতির সমৃদ্ধি হোক। কেননা আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। (জুমআঃ ২)

এখানে পথ ভ্রষ্টতা বলতে মানুষের ধ্যান ধারণা ও বিশ্বাসের ভ্রষ্টতাকে বুঝানো হয়েছে। জীবনের সব ধরণের অর্থের ভ্রষ্টতা, লক্ষ্য উদ্দেশ্যের ভ্রষ্টতা, অভ্যাস ও আচার আচরণের ভ্রষ্টতা, জীবন ব্যবস্থা ও অবস্থানের ভ্রষ্টতা, সমাজ ও আখলাকের ভ্রষ্টতা ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে।




Tags: